আলির দুই গোলে রিয়ালকে হতাশ করে নক আউট পর্বে টটেনহ্যাম

 ডেলে আলির দুই গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৩-১ গোলে পরাজিত করে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে টটেনহ্যাম হটস্পার। গত পাঁচ বছরে গ্রুপ পর্বে এটাই রিয়ালের প্রথম পরাজয়।
ওয়েম্বলী স্টেডিয়ামে প্রথামার্ধেই গোলপোস্টের খুব কাছে থেকে টটেনহ্যামকে এগিয়ে দেন আলি। বিরতির পরে অনেকটা একক প্রচেষ্টায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইংলিশ এই মিডফিল্ডার। প্রথমবারের মত ওয়েম্বলীতে খেলতে নেমে রিয়াল নিজেদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনার অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের ৬৫ মিনিটের গোলে জিনেদিন জিদানের দলের সব আশা শেষ হয়ে যায়। এই ম্যাচের পরে হয়তবা জিদান শিষ্যরা শিগগিরই ইংল্যান্ডের জাতীয় এই স্টেডিয়ামে আর কোন ম্যাচ খেলার আশা করবে না। ৮০ মিনিটে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর একমাত্র গোলটি ১২বারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য কোন সান্তনাই দিতে পারেনি। ২০১২ সালের অক্টোবরের পরে গ্রুপ পর্বের কোন ম্যাচে কখনই পরাজিত হয়নি গ্যালাকটিকোরা।
অন্যদিকে রিয়ালের বিপক্ষে স্পারসদের এটাই ছিল ক্লাব ইতিহাসে প্রথম জয়। এই জয়ে গ্রুপর-এইচ’র শীর্ষ দল হিসেবে ইতোমধ্যেই টটেনহ্যাম নক আউট পর্বের টিকিট কেটে ফেলেছে, যদিও এখনও গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। তবে ম্যাচগুলো লন্ডনের ক্লাবটির জন্য শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। এই জয়ে একটি বিষয় অন্তত নিশ্চিত যে প্রিমিয়ার লীগের ক্লাবটিকেও এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার বিবেচনা করা যেতেই পারে।
এবারের মৌসুমের শুরুটা আলির জন্য মোটেই সুখকর হয়নি। কিন্তু তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ইউরোপে ফিরেই ২১ বছর বয়সী আলি যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তাতে টটেনহ্যাম গর্ব করতে পারে। ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই জয়ের পরে স্পারস বস মরিসিও পোচেত্তিনো বলেছেন, ‘এটা খেলোয়াড়দের অসাধারণ এক আত্মবিশ্বাস উপহার দিবে। কারণ এই ধরনের ফলাফল সবসময় আসেনা। আমরা এখন চ্যাম্পিয়নস লীগের নক আউট পর্বে উঠেছি। কিন্তু এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পা মাটিতে রাখা।’
টটেনহ্যাম যেখানে স্বপ্নের সাগরে ভাসছে সেখানে গত সপ্তাহে ছোট দল জিরোনার কাছে লা লিগায় পরাস্ত হবার পরে চ্যাম্পিয়নস লীগেও হোঁচট খাওয়া মাদ্রিদের জন্য একটি সতর্কবার্তাই বটে। এছাড়া এই প্রথমবারের মত জিদান রিয়ালের হয়ে বিরাট এক চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছেন। পুরো ম্যাচে টটেনহ্যামের গতির সাথে কোনদিক থেকেই মানিয়ে নিতে পারেনি মাদ্রিদ খেলোয়াড়রা। জিদান বলেছেন, আজ সবদিক থেকেই টটেনহ্যাম এগিয়ে ছিল। আমরা বাজে একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এই পরিস্থিতি অবশ্যই আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই হ্যারি কেন তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় টটেনহ্যামকে এগিয়ে দেবার চেষ্টা করে গেছেন। তার পাস থেকে রাইট-ব্যাক কিয়েরান ট্রিপারের ভলি অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ইনজুরির কারণে অবশ্য কাল মাঠে ছিলেন না বেলজিয়ান ডিফেন্ডার টবি অল্ডারওয়েইরাল্ড। কিন্তু তারপরেও পোচেত্তিনোর দল নিজেদের ঠিকই এগিয়ে নিয়ে গেছে। ২৭ মিনিটে তার পুরস্কারও পায় স্পরাসরা। এরিকসেনের পাস থেকে ট্রিপারের কাছ থেকে লো ক্রসে আলি বল পেয়ে মাদ্রিদকে পিছিয়ে দেন। যদিও গোলটিতে অফসাইডের আবেদন করেছিল সফরকারীরা। প্রথমার্ধের পুরোটা সময় রোনাল্ডোকে প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায়নি।
বিরতির পরে প্রথম সুযোগেই টটেনহ্যাম গোলরক্ষক হুগো লোরিসকে পরাস্ত করতে পারেননি এই পর্তুগীজ তারকা। উল্টো ৫৬ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগে আলি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৬৫ মিনিটে কাউন্ডার এ্যাটক থেকে কেনের সহযোগিতায় এরিকসেন দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৮০ মিনিটে রোনাল্ডোর এক গোলে মাদ্রিদ শুধুমাত্র ব্যবধানই কমিয়েছে।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...