২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসন করা হবে : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসন করা হবে। এর আগে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসনের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার সকল প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম নিরসনের লক্ষে দেশব্যাপী একটি জরিপ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এই জরিপের মাধ্যমে দেখা হবে যে, সারা দেশে প্রকৃতপক্ষে কি পরিমাণ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সেমিনার রুমে ‘ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) কনভেনশনের ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষর’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
জাতীয় বার্তা সংস্থা ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র (বাসস) ‘বিএসএসইনফোটেইনমেন্ট ডট নেট’ অস্ট্রেলিয়ান এইড, সিএসআইডি ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনজুরুল আহসান বুলবুল, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব খন্দকার মোস্তান হোসেন, সিএসআইডির নির্বাহি পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহানাজ হুদা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ‘আইএলও কনভেনশনের ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষর’ বিষয়ে অনুষ্ঠানে বলেন, “শিশু শ্রমিকদের সর্বনি¤œ বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইএলও কনভেনশনের ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষরের বিষয়ে সরকার আন্তরিক। এই কনভেনশন অনুস্বাক্ষরের আগে আমাদেরকে যথোপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজে ব্যক্তি পর্যায়ে সকলকে ১৩৮ ধারার বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। যৌক্তিক পর্যায়ে পৌছালে সরকার ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষর করবে।”
প্রতিমন্ত্রী শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার গৃহীত নানা কর্মকান্ডের বর্ণনা করে বলেন, শুধু গার্মেন্টেসে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য সরকার একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছে। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত এই তহবিলে ৩৭ কোটি টাকা জমা হয়েছে। মোট রপ্তানী মূল্যের শুণ্য দশমিক শুণ্য তিন শতাংশ অর্থ সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে এই তহবিলে জমা হচ্ছে। গার্মেন্টেসে কর্মরত যে কোন শ্রমিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে তিন লাখ টাকা এই তহবিল থেকে দেয়া হবে। একই সাথে ২ লাখ টাকা দেয়া হবে বীমা বাবদ।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলে বর্তমানে জমার পরিমাণ ২০৮ কোটি টাকা। এই তহবিল থেকে ইতোমধ্যেই কল্যাণ বাবদ ব্যয় শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৭ মে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে শ্রমিকদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়ে এই সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাসস-এর মূল কাজ হচ্ছে সংবাদ পরিবেশন করা। সংবাদ পরিবেশনের বাইরেও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদেরকে কাজ করতে হয়। আর এরই অংশ হচ্ছে আজকের এই ‘ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) কনভেনশনের ১৩৮ ধারা অনুস্বাক্ষর’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভা।
মতবিনিময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, বাসস-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহরিয়ার শহীদ, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এমপাওয়ারিং ওয়ার্কিং চিলড্রেন প্রোজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার অগাস্টিন সুভাষ পিউরিফিকেশন, দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক কাজী রফিক, বাসস-এর প্রধান প্রতিবেদক আশেকুন নবী চৌধুরী, গাজী টিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ, ঘাসফুল শিশু ফোরামের সম্পাদক সায়মা আকতার, আইএলও প্রতিনিধি মুনিরা সুলতানা, চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তফা মল্লিক প্রমুখ অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন বাসস-এর বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজা জেসমিন।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...