ঘূর্ণিঝড় মোবাবেলার তথ্য স্থানীয়দের জানাতে হবে : টিআইবি

দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা মোকাবেলা সংক্রান্ত তথ্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অবহিত করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার ধানমন্ডিস্থ টিআইবি কার্যালয়ে ‘ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু : দুর্যোগ মোকাবেলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ উঠে আসে।

এ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন অ্যাড. সুলতানা কামাল, উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ।

গবেষণার মূল উদ্দেশ্যে হলো ঘূর্ণিঝড় রেয়ানু মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপে সুশাসন চ্যালেঞ্জ ও তার কারণ, ফলাফল ও প্রভাব চিহ্নিত করণ এবং এসব সুশাসনগত চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ করা। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে দেশে দেশে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাসসহ নানা ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকির মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এরই প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ৮৩টি দেশ এ সংক্রান্ত আইনগত প্রবিধান প্রনয়ন করেছে। 

এ সময় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে ২০১৫ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ২০০৯-২০১৪ সময়কালে ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডোতে বাংলাদেশের মোট থানার ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু উপকূলীয় ১৫ জেলায় আঘাতের কারণে ২৭ জন নিহত এবং ঘরবাড়িসহ জমির ফসল ও অন্যান্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির চাহিদা নিরুপণ, ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণ সংক্রান্ত সুপারিশ তুলে ধরা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 

১) দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা মোকাবেলা সংক্রান্ত তথ্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে অবহিত করা।

২) সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত প্রচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি কমিউনিটি রেডিও এবং মোবাইল ফোনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা।

৩) উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি তিন মাস পর পর প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন।

৪) উপকূলীয় সব আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, রক্ষাণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ এবং কর্মী নিয়োগসহ ১৫টি সুপারিশ করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...