দুগ্ধ খামারের সম্ভাবনাময় এলাকা নীলফামারী

নীলফামারী জেলার অবস্থান হিমালয়ের পাদদেশে হওয়ায় নেমে আসা পানিতে অকাল বন্যা দেখা দেয়। ফলে চরের পতিত জমি এবং আবাদি জমি পানির নিচে ডুবে যায় এবং এক সময় সবুজ ঘাসের সমারহ ঘটে। আর এ কারণেই এখানে গাভী পালনে উৎসাহী হয়ে উঠছেন এলাকাবাসী। 

উপজেলাটিতে ছোট-বড় ৯২টি বিদেশি জাতের গরুর খামার গড়ে উঠেছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদের এক হিসাব অনুসারে দেখা যায় গবাদি পশুর সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ৩৫০টি এবং দৈনিক দুধ উৎপাদন হচ্ছে ১৫ হাজার ২০০ লিটার। 

কিন্তু প্রতি কেজি দুধ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। ফলে খামারিরা পড়ছেন চরম বিড়ম্বনায়। একদিকে দুধের দাম পাচ্ছে না অন্যদিকে গোখাদ্যের দাম বেশি।

Nilphamari
সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কোনো চিলিং পয়েন্ট স্থাপন না হওয়ার কারণে খামারিরা দুধের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া সরকারি পর্যায়ে খামারিদের উৎসাহিত করার জন্য ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও তা খামারিদের দোড় গোড়ায় পৌঁছে না। এরূপ অবস্থার কারণে খামারিরা গাভী পালনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। 

পল্লীশ্রী রি-কল প্রকল্প ডিমলা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের খামারিদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। খামারিরা যেন দুধের ন্যায্য মূল্য পায় এবং সরকারের সুযোগ সুবিধাগুলো নিতে পারে এজন্য গত বছরের ২৫ অক্টোবর মিল্ক ভিটা লিমিটেড এর রংপুর রিজন্যাল কর্মকর্তা ডিমলা উপজেলার খামারিদের বাড়ি এবং সংগঠিত দুধ উৎপাদক দল পরিদর্শন করেন। 

মিল্ক ভিটা লিমিটেড কর্তৃক গঠিত একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল ডিমলা উপজেলা পরিদর্শন করেন যেখানে প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিল্ক ভিটার সিনিয়র ম্যানেজার ড. শ্যামল। এসময় নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার উপস্থিত ছিলেন। 

মাঠ পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে তারা জানান, এখানে সরকারি উদ্যোগে একটি চিলিং পয়েন্ট স্থাপন করলে এখানকার খামারিরা দুধের ন্যায্য মূল্য ও চিকিৎসা থেকে শুরু করে ঋণ পযর্ন্ত পাবেন। বাংলাদেশে যেহেতু ৭০ ভাগ শিশু খাদ্য বিশেষ করে দুধ বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয় সেহেতু এখানকার খামারিদের যদি উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেয়া যায় তাহলে দুধের জন্য সম্ভাবনাময় একটি এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে নীলফামারী।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...