কুকুরের জীবন বাঁচিয়ে জাতীয় বীরের খেতাব পেলেন তিনি

শিয়া অধ্যুষিত ইরানে কুকুরের জীবন বাঁচিয়ে জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন দেশটির সুন্নিপন্থী এক তরুণ সেনা সদস্য। মাইন ফিল্ডের পাশে কাঁটাতারে আটকা পড়া একটি বেওয়ারিশ কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে বিস্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন ওই সেনা।  

১৯ বছর বয়সী সেনাসদস্য মোহাম্মদ বখতারের এ গল্প দেশটিতে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। গত মাসে ইরানের একটি সেনাঘাঁটির এ ঘটনার ছবি টুইটের পর ব্যবহারকারীরা বখতারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। 

১৭ ডিসেম্বর পড়ন্ত বিকেলে বখতার দেখেন, অস্ত্রাগারের পাশের একটি মাইন ফিল্ডের কাছে কাঁটাতারে পা আটকে রয়েছে একটি কুকুরের। কুকুরটির কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে উদ্ধারে এগিয়ে যান তিনি। এ সময় মাইনের বিস্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হয় তার ডান পা।

iranian

বখতার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, আমি পোস্টের কাছে দাড়িয়ে ছিলাম... কুকুরটির অবিরত কান্না শুনতে পাই। 

তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম এটি একটি মাইন ফিল্ড। কিন্তু বেড়ার অন্যপাশে হওয়ায় আমি ক্ষুদে কুকুরটির কাছে পৌঁছাতে পারছিলাম না। শেষপর্যন্ত কুকুরটিকে ছাড়ানোর জন্য আমি কাঁটাতারের বেড়ার অন্যপাশে আমার ডান পা দিয়েছিলাম। কুকুরটি ছাড়া পেয়ে দৌঁড় শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে মাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। 

ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টা ধরে বখতারের বিচ্ছিন্ন পা জোড়া দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা সফল হতে পারেননি। 

অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে ইরানের তাবরিজে জাতিগত ধর্মীয় সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। শিয়া অধ্যুষিত ইরানে আজ হাজার হাজার মানুষ সুন্নিপন্থী এক সেনার বীরত্ব গাঁথায় একই কাতারে দাঁড়িয়েছেন। হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, সুস্থ্যতা কামনা করছেন শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও। 

হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসাধীন এবং পরে নিজ শহর মারিভানে বখতারকে বীরোচিত অভ্যর্থনা দেয়ার ছবি টেলিগ্রাম ম্যাসেঞ্জারে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

তেহরানের এক তরুণী টুইটে লিখেছেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্য এবং আরো অনেক এলাকায় বিদ্যমান সমস্যার ওষুধ হিসেবে সম্মান ও বীরত্বের প্রতীক এই সেনাকে স্যালুট জানাচ্ছি।’

iranian

সাইক্লিস্ট কামাল রাসতখানি লিখেছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঈশ্বরের সৃষ্টি ভালোবাসার প্রতীক বখতারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা পাড়ি দিয়ে ওই শহরে এসেছেন। 

অনেকেই বখতারকে অন্য কোনো চাকরি ও বীমার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এনভায়র্নমেন্টাল প্রটেকশন অর্গানাইজেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকার ওই সেনা সদস্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন,  বখতার প্রত্যেক ইরানির জন্য গর্ব এবং সম্মানের উৎস। 

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...