শেরপুরে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হলেন সাবেক মেয়র

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রুমান। মঙ্গলবার রাতে শহরের খরমপুর এলাকায় তিনি তার নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন এবং নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।

এ সময় তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু, সাবেক সহ-সভাপতি ও সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওয়াদুদ অদু, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুন্নাহার কামাল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাপস সাহা, মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন মঞ্জু প্রমুখ।

এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অন্যান সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্নস্তরের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ভিপি বায়োযিদ হাসান, জেলা যুবলীগ সভাপতি ও কামারেরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও চরশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সুরুজ, শহর যুবলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান দুলাল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সাম্পাদক নাজমুল ইসলাম সম্রাট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেক্টর কমান্ডার ফোরাম শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির রুমান তার প্রার্থীতা ঘোষণা করে বলেন, আমি বিগত সময়ে পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলাম। ফলে পৌরবাসী আমাকে আবারও মেয়র হিসেবে দেখতে চাইলেও আমার ভাতের থালা কেড়ে নেয়া হয় এবং আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এসময় রুমান হুইপ আতিউর রহমান আতিক ও প্রার্থী চন্দন কুমার পাল নির্বাচন আচরণবিধি লংঘন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

উল্লেখ্য, জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালকে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সাবেক মেয়র প্রার্থীতা ঘোষণা করায় জেলা আওয়ামী লীগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে পৌর নির্বাচনেও মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও হুমায়ুন কবীর রুমান পরে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে দলের ভেতরে কোন্দল দেখা দেয়। এতে হুইপ আতিকের স্নেহধন্যরা দলীয় পদ-পদবী পেলেও কোনঠাসা করে রাখার অভিযোগ ওঠে আতিক বিরোধীদের। যে কারণে অনেক ডাকসাইটে নেতাও কাঙ্খিত পদ থেকে বঞ্চিত হন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে হুইপ আতিককে চ্যালেঞ্জ জানাতেই রুমানকে বিদ্রোহী প্রার্থী করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে কিংবা বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোন প্রার্থীর পক্ষে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে কোনো ধরনের কাজ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি তিনি মন্ত্রী-এমপি হলেও রক্ষা পাবেন না।

জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের ওই সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির ৭১ সদস্যের মধ্যে ৬২ জন উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...