কুড়িগ্রামে ভোটের আগেই ভোটের আমেজ

কুড়িগ্রামে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে ভোটের আগে ভোট। জেলার ৯ উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভার এক হাজার ১৫ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৮৯৬ জন প্রতিনিধি তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তারা বর্তমান জেলা প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলী এমপিকে তাদের সিল স্বাক্ষরযুক্ত প্যাডের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিতভাবে সুপারিশ পাঠিয়েছেন। এতে ভোটের আগেই ভোটের আমেজ শুরু হয়েছে জেলা জুড়ে।

সূত্রে জানা যায়, সমর্থনকারীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। কাউকে সমর্থন জানাননি ১১৯জন জন প্রতিনিধি। বিশ্লেষকদের মতে জাফর আলী মনোনয়ন পেলে জামানত হারানোর ভয়ে বিকল্প প্রার্থী থাকবে না এটা প্রায় নিশ্চিত। ফলে জাফর আলী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি প্রার্থী না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক সাংসদ মো. জাফর আলী বুধবার দুপুরে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিল্পপতি আলহাজ পনির উদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

jaforকুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়া মানে নিশ্চিত বিজয়। এজন্য ঢাকায় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে লবিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নেতারা। তবে এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ বর্ধিতসভা করে মো. জাফর আলীকে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের জন্য সুপারিশ করে ঢাকায় দলীয় প্রধানের কাছে প্রেরণ করেছে।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরন্নবী চৌধুরী ও জয়মনিরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন জানান, মূলত কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি ছাড়া অন্যান্য দলের অবস্থান নেই বলেই চলে। জেলার ৯ উপজেলায় ৭৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভায় নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের। ফলে নিশ্চিত পরাজয়ের কথা ভেবে এ দুই দলের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই।

উলিপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠিক সম্পাদক ও হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, মাটি ও মানুষের নেতা জাফর আলী। এর আগে সাংসদ থাকা অবস্থায় ক্লিন ইমেজের পরিচয় দিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে জেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এ কৃতজ্ঞতা থেকে জাতীয়পার্টি ও বিএিনপির সমর্থক জন প্রতিনিধিরাও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। উলিপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১জন চেয়ারম্যান ও ১২৬জন জন প্রতিনিধি সমর্থন জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন।

নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু জানান, নেতা নির্বাচনে উন্নয়নের স্বার্থে আমরা প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছি। কারণ জাফর আলী জনপ্রিয় সর্বদল শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য নেতা।

চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী বীরবিক্রম বলেন,  উপজেলার ৯১জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ৭৮জন জাফর আলীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর আবেদন করেছেন। তিনি তাকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন এটা আমাদের বিশ্বাস।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...