রমনা থানায় চালু হয়েছে ‘নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) থানাগুলোতে চালু হচ্ছে নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র। তাদের আইনী সহায়তা দিতেই থানায় থানায় আলাদাভাবে এ সেবা কেন্দ্র চালু হচ্ছে।

রোববার দুপুরে রমনা থানায় এ সেবা কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে ডিএমপি।

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নারী অধ্যক্ষ, ছাত্রীসহ সকলেই এ উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন।

ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, অনেক সময় স্পর্শকাতর বিষয়ে নারী ও শিশুরা থানায় এসে ডিউটি অফিসারদের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। এছাড়া তারা থানায় সকলের উপস্থিতিতে সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতেও স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। সে জন্য অন্যদের অজ্ঞাতে যাতে নারী ও শিশুরা পুলিশকে ‍নিজেদের সমস্যা জানিয়ে আইনী সহায়তা নিতে পারেন সেজন্যই মূলত: এ উদ্যোগ।

এব্যাপারে ডিএমপি’র রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার জাগো নিউজকে বলেন, নারী ও শিশুরা এখন, নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে লোকলজ্জার আড়ালে থেকে নিজেদের সমস্যা থানায় জানাতে পারবেন। কোনো সমস্যায় পড়লে আইনী সহায়তা নিতে পারবেন। পারবেন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করতেও। একাধিক নারী উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে এ সেবা কেন্দ্র সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পরীক্ষামূলক রমনা থানায় আজ (রোববার) এ সেবা কেন্দ্র চালু করেছি। পর্যায়ক্রমে সব থানায় এ সেবা কেন্দ্র চালু করা হবে।

এ ব্যাপারে ইস্পাহানি স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মারুফি খান বলেন, দেরিতে হলেও এ সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ায় নারী, ছাত্রী কিংবা কিশোরী ও শিশুদের জন্য আইনী সহায়তা পাবার দ্বার উন্মুক্ত হলো।

ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী সু্কন্যা দাস পূজা জানান, আগে থানায় এসে কোনো সমস্যা উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতাম না। কিন্তু এখন আলাদা সেবা কেন্দ্র চালু করায় নারী-কিশোরীদের জন্য সুবিধা হবে।

সিদ্ধেশ্বরী স্কুল এণ্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ কানিজ মাহমুদা আক্তার বলেন, অনেক ছাত্রী আমার কাছে এসে সমস্যার কথা বলতে পারলেও থানায় গিয়ে পুলিশকে বলতে লজ্জা ও ইস্ততত: বোধ করে। তবে থানায় নারী এসআই এর নেতৃত্বে নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র চালু হলে ওরা(ছাত্রীরা) সুবিধা পাবে।

এব্যাপারে ডিএমপির মিডিয়া অ্যাণ্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদর রহমান বলেন, আপাতত রমনা থানায় এটি চালু হলো। এরপর পুরো রমনা বিভাগে চালু করা হবে।

এছাড়া ডিএমপির সব থানায় চালুর বিষয়টি সেবার সফলতা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...