নেইমারের রেকর্ডে অলিম্পিকের ফাইনালে ব্রাজিল

অলিম্পিকের অধরা স্বর্ণ জেতার মিশনে আর মাত্র একটি ম্যাচ দূরে ব্রাজিল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথম সেমিফাইনালের ম্যাচে নেইমারের ব্রাজিল ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে হন্ডুরাসকে।
প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেলেকাওরা বিরতির পর আরও তিনটি গোল করে। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন নেইমার আর গ্যাব্রিয়েল। একটি করে গোল করেন মারকুইনহোস এবং লুয়ান।
ঘরের মাটিতে অধরা স্বর্ণ জয়ের মিশনে শুরুর হতাশাজনক পারফরম্যান্স ভুলে বুধবার (১৭ আগস্ট) রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই নামে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ম্যাচটি শুরু হয় ম্যাচটি।
অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ হন্ডুরাসকে খেলা ‍শুরু হতেই ধাক্কা খেতে হয়। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লিড নেয় ব্রাজিল। সেলেকাও দলপতি নেইমারের ১৫ সেকেন্ডের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় রজারিও মিকেলের শিষ্যরা। নেইমারের এই গোলটি অলিম্পিকের ইতিহাসে সবথেকে দ্রুততম গোলের রেকর্ড।
এর আগে কানাডা নারী দলের জেনিন বেকার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৯ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন।
খেলার ১৩তম মিনিটের মাথায় হন্ডুরাসের ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পায় ব্রাজিল। তবে, সেখান থেকে কোনো সুযোগ হয়নি গোলের। ২৬ মিনিটের মাথায় লুয়ানের অ্যাসিস্ট থেকে ব্রাজিলের লিড দ্বিগুন করেন গ্যাব্রিয়েল।
৩৫ মিনিটের মাথায় দলের তৃতীয় আর নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সেই গ্যাব্রিয়েলই। এবারে গোল করতে বলের যোগানদাতা হিসেবে ছিলেন নেইমার।
প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
বিরতির পর আবারো হন্ডুরাসের সীমানায় আক্রমণে যায় ব্রাজিল। খেলার ৪৮ মিনিটে দারুণ এক প্রচেষ্টা চালান কোয়ার্টার ফাইনালের গোলদাতা লুয়ান। তার সামনে ছিলেন শুধুই প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক লোপেজ। তবে, লুয়ানের আলতো শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন লোপেজ।
৫১ মিনিটের মাথায় দলের চতুর্থ গোলটি করেন ব্রাজিল তারকা মারকুইনহোস। নেইমারের কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল প্রথম প্রচেষ্টায় জালে জড়াতে না পারলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ঠিকই হন্ডুরাসের গোলরক্ষক আর এক ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মারকুইনহোস। ফলে, ব্রাজিল এগিয়ে যায় ৪-০ গোলে।
খেলার ৬৩ মিনিটে গোলের দেখা পেতে পেতেও পাওয়া হয়নি বার্সেলোনার তারকা নেইমারের। হন্ডুরাসের ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া ফ্রি-কিক কোনোমতে ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক লোপেজ। ৭৪ মিনিটে আবারো বাতাসে ভাসিয়ে ফ্রি-কিক নেন নেইমার। ব্রাজিল দলপতির এবারের শটটি লোপেজ রুখতে পারেননি। তবে, একেবারে গোলবার ঘেঁষে বল বাইরে বেরিয়ে যায়।
৭৯ মিনিটে ব্রাজিলের লিড দাঁড়ায় ৫-০ তে। গ্যাব্রিয়েলের বদলি খেলোয়াড় ফিলিপ অ্যান্ডারসনের বাড়িয়ে দেওয়া কোনাকুনি শটে একেবারে ফাঁকায় দাঁড়ানো লুয়ান বল জালে জড়িয়ে দেন। পরের মিনিটে হন্ডুরাসের বানেগাসের দূরপাল্লার জোরালো শট রুখে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক উইভারটন।
৮৯ মিনিটে নেইমারের দুর্দান্ত একটি শট প্রতিহত হয়। একই মিনিটে লুয়ানকে নিজেদের ডি-বক্সে ফাউল করেন হন্ডুরাসের এক ডিফেন্ডার। ফলে, পেনাল্টি লাভ করে ব্রাজিল। আর দলের অধিনায়ক নেইমার পেনাল্টি শট থেকে দলকে ৬-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান। বাকিটুকু সময়ে আর কিছু না ঘটলে এই স্কোরেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে নেইমার বাহিনী।
এর আগে ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হেরেছিল ব্রাজিল। এবার অলিম্পিকের অধরা স্বর্ণ জয়ের এই মিশনে স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলের সামনে আক্ষেপ ঘোঁচানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ থাকছে।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...