গুলশানে নামছে ৩০ এসি বাস, ভাড়া ১৫ টাকা

ঢাকা: গুলশানের নিরাপত্তায় ৫শ রিকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে প্রবেশ ও বহির্গমন পথ। আগামী ১০ আগস্ট থেকে গুলশানের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য ৩০টি এসি বাস নামানো হবে। যেখানে ভাড়া হবে রিকশার চেয়েও কম, মাত্র ১৫ টাকা।

শনিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

'আবাসিক এলাকার ভূমি ও ভবন ব্যবহার: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইইবি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।

এতে আনিসুল হক বলেন, আমি টোটালি কনফিউজড। কারণ আইন বলছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে। অন্যদিকে অনেক ইনভেস্টমেন্ট। তাই দু’টি বিষয়ই ভাবতে হচ্ছে। যদিও এসব রাজউক, সিটি করপোরেশনের সহায়তাতেই হয়েছে। কাজেই রাজউকের বেড়াও খেত খায়, আমার বেড়াও খায়।

তিনি বলেন, গুলশান হামলার আগে থেকেই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করবো এটা তাড়াহুড়ো করে করা যাবে না। কেননা, এতে একলাখ লোক বেকার হয়ে যাবে। তাই যারা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, তাদের বলবো আপনারা সিকিউরিটি নিশ্চিত করুন।

মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে সব প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে কোনো পার্কিং থাকতে পারবে না।

সভায় অন্যদের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী, আইএবি'র সভাপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ, বিআইপি'র সভাপতি ড. একেএম আবুল কালাম, অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, তানজিব উল আলম, স্থপতি কাজী এম আরিফ, পরিকল্পনাবিদ আখতার মাহমুদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ড. ইসরাত জাহান, স্থপতি সালাহ উদ্দিন আহমদে, স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, রাজউক যেখানে আবাসিক এলাকা গড়েছে, সেখানে পরিকল্পনা করেই করা হয়। উত্তরা, গুলশানে তাই হয়েছে। তবে অবশ্যই রাজউকে দুর্বলতা, অক্ষমতা আছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।

বক্তারা বলেন, ঢাকার সমস্যা ঢাকার না। সমগ্র বাংলাদেশের সমস্যা। সবকিছু যদি ঢাকাতেই থাকে লোক তো আসবেই। তাই নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন উপর আইন হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন সময়ের সঙ্গেই হয়। তবে বর্তমানে যে আছে, সেটারও প্রয়োগ ঠিকমত হয় না। এ বিষয়েও নজর দেওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম ঢালাওভাবে না করে পরিকল্পনা করে সময় নিয়ে সম্পন্ন করার সুপারিশও করেন অনেকে।

বক্তারা আরও বলেন, কোনটি আবাসিক আর কোনটি বাণিজ্যিক বা কোন আবাসিকে কি পরিমাণ বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে, তার জন্য আইন দরকার। বর্তামানে যে আইন আছে তা যুগপোযোগী নয়। যে কারণে প্রতিটি এলাকায় অবৈধ প্রতিষ্ঠান বেড়ে যাচ্ছে। এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকা বসবাসের উপযোগিতা হারাচ্ছে। তাই ঢাকাকে ভোগ না করে উপভোগের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...