উইন্ডিজের লড়াই শুরু অশ্বিন-সাহার শতকের পর

সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৫৩ রানে অলআউট হয়েছে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ১০৭ রান নিয়ে।
ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা বিবেচনায় নিলে এই রান অনেক। ‌এক সময় তো দুশ ছোঁয়া নিয়েই ছিল শঙ্কা। আবার অশ্বিন-সাহার জুটির পর সাড়ে চারশও মনে হচ্ছিল সম্ভব। কিন্তু শেষটা আবার হতাশায়।
অশ্বিন-সাহার জুটি জমে উঠেছিল আগের দিনই। বুধবার দ্বিতীয় দিনেও দুজন দারুণ দৃঢ়তায় এগিয়ে নেন দলকে। অশ্বিন যথারীতি ছিলেন দারুণ সতর্ক। তবে আগের দিন খোলসে ঢুকে থাকা সাহা এদিন খেলেছেন সহজাত সব শট। রানে বেশ পেছনে থাকলেও লাঞ্চের আগে অশ্বিনকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেন সাহা। ৯৯ রানে লাঞ্চে যান অশ্বিন, ৯৩ রানে সাহা।
৯৯ রানে ১৪ বল আটকে থাকার পর অফ স্পিনার রোস্টন চেইজকে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কায় অশ্বিন স্পর্শ করেন তিন অঙ্ক। সিরিজে যেটি তার দ্বিতীয় শতক, ক্যারিয়ারে চতুর্থ। চারটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। দারুণ ধৈর্যশীল সেঞ্চুরিটি ছুঁয়ছেন ২৬৫ বলে।
খানিক পর চেইজের বলেই ডাবল নিয়ে সাহা ছুঁয়ে ফেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, ২২৪ বলে। আগের ১৩ টেস্টে তার অর্ধশতক ছিল মাত্র দুটি। মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসরের পর তবু সাহার ওপরই ভরসা রেখে চলেছেন বিরাট কোহলি। সেই আস্থার প্রতিদান অবশেষে দিতে পারলেন বাংলার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
৩১ বছর ২৯১ দিন বয়সে করলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, আর কোনো ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান প্রথম সেঞ্চুরি পাননি এত বেশি বয়সে। সৈয়দ কিরমানি করেছিলেন ২৯ বছর ৩০৯ দিন বয়সে।সেঞ্চুরির পরপরই অবশ্য সাহাকে ফিরিয়ে দেন অভিষেকে নজরকাড়া আলজারি জোসেফ। ভারতের ধসেও শুরুও তাতেই।
মিগুয়েল কামিন্সের দারুণ বাউন্সারে শেষ হয় অশ্বিনের লড়াই। লেজটাও ছেটে দেন কামিন্স। ৪৮ বল আর ১৪ রানে ভারত হারায় শেষ ৫ উইকেট।
ক্রেইগ ব্রেথওয়েট ও লিওন জনসনের উদ্বোধনী জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এনে দেয় ৫৯ রান। সেই ২০১৪ সালেল ডিসেম্বর থেকে ২৫ ইনিংস পর আবারও অর্ধশত রানের শুরু পেলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ!
লোকেশ রাহুলের সরাসরি থ্রোতে জনসনের রান আউটে ভাঙে এই জুটি। তবে ব্রেথওয়েইট ও ড্যারেন ব্রাভো দিন শেষ করেন ৪৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...