এবার প্রেমিকার অনশন কৃষিবিদের অফিসে গিয়ে


দুই বছর প্রেম করে বিয়ে না করায় প্রেমিকের অফিসেই অনশন করেছেন এক প্রেমিকা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ কুমার প্রনয় বিষাণ দাশের সঙ্গে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল সেখানকার স্কুল শিক্ষকের মেয়ে পুষ্পার (ছদ্মনাম)

পুষ্পাকে না জানিয়ে কিছুদিন আগে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলী হয়ে কালীগঞ্জে যোগদান করেন প্রনয় বিষাণ। তবে গোপনে বদলী নিয়েও রক্ষা হলো না তার। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বিয়ের দাবিতে তার অফিসেই অনশন করছেন প্রেমিকা।

উপজেলা প্রশাসন আর জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপেও প্রেমিকার অনশন না ভাঙ্গায় উপজেলা প্রশাসন বাধ্য হয়ে উভয়ের অভিভাবকদের ডাকে।

অফিসার কৃষিবিদ কুমার প্রনয় বিষাণ দাশ পূর্বের কর্মস্থলে থাকাবস্থায় সেখানকার উচ্চ শিক্ষিতা মেয়ে পুষ্পার (ছদ্মনাম) সঙ্গে দুই বছর আগে বিয়ের প্রলোভনে প্রেমের সম্পর্ক হয়। গোত্রীয় বৈষম্যের কারণে প্রেমিকার পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি উঠে।

বিষয়টি নিয়ে সুন্দরগঞ্জ-গাইবান্ধায় একাধিকবার সালিশ বসে কিন্তু কোনো রকম সুরাহা ছাড়াই কৌশলে কালীগঞ্জ উপজেলায় বদলী নিয়ে চলে আসেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কুমার প্রনয় বিষাণ দাশ।

প্রেমিকা পুষ্পা একমাস আগে বিষয়টি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আলমের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কোনো সুরাহা না পেয়ে নিরুপায় হয়েই তিনি অনশনে যান।

বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ গিয়ে মেয়ে ছেলেকে হাজতে নিতে চাইলে প্রেমিক কৌশলে স্থানীয় আপোষ করার প্রস্তাব দেন। মেয়েটি তাড়িয়ে দেয়ার নানা নাটকিয়তার পর অবশেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহম্মদের নজরে এলে তিনি উভয়পক্ষের অভিভাবকদের তলব করেন।

প্রেমিকা পুষ্পা বলেন, ‘আমাকে বিয়ে না করলে আমি নিজেই জীবন দিয়ে দিবো। আমাকে নিয়ে যা করেছে সেটি বলার মতো না।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, উভয়ের অভিভাবকের উপস্থিতিতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে আপোষের কথা বলায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মেয়েটি অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আলম জানান, মেয়েটির অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। বর্তমান বিষয়টি নিয়ে উভয়ের অভিভাবককে ডাকা হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুজামান আহম্মেদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দুইজনেই সম্পর্কেও কথা স্বীকার করেছে। তাই উভয়ের অভিভাবকদের ডাকা হয়েছে।

রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত প্রেমিকা পুষ্পা তার অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...