বিচারিক তদন্ত হবে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক লাঞ্ছনার

তিন মাস আগের ওই ঘটনা তদন্ত করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে হাই কোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়। 
নারায়ণগঞ্জের স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনায় মন্ত্রী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এ কে এম সেলিম ওসমানের শাস্তি দাবি করলেও পুলিশ তদন্ত করে আদালতকে বলেছিল, তারা ওই ঘটনায় এই সংসদ সদস্যের কোনো দোষ পায়নি।
হাই কোর্ট আদেশে বলেছে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর যে বিচারক ওই প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে রাখেন, তিনি ‘বিচারিক মন প্রয়োগ করেননি’।
আগামী ৬ নভেম্বর বিষয়টি আবার শুনানির জন্য আসবে বলে আদেশে জানিয়েছে হাই কোর্ট।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে গত ১৩ মে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানই যে সেদিন শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠ বস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও তা দেখা যায়।
সরকারের মন্ত্রীরাও সে সময় সেলিম ওসমানের ভূমিকার জন্য সমালোচনায় মুখর হন। তবে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের এই সদস্য কোনো ‘ভুল করেননি' দাবি করে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন। 
ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এলে হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।
আদালতের নির্দেশনায় ২৯ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা দায়সারা বলে অসন্তোষ জানিয়েছিল আদালত।
এরপর ৮ জুন জেলা প্রশাসক নতুন করে প্রতিবেদন দেন হাই কোর্টে। ওই ঘটনার করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে অগ্রগতি আছে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসি ৬০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেন।
আদালত তখন স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় করা জিডির তদন্তে আসা ফল হলফনামা আকারে ৪ অগাস্ট আদালতে দাখিল করতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়। গত ৭ অগাস্ট পুলিশের সেই প্রতিবেদন হাই  কোর্টে পড়ে শোনায় রাষ্ট্রপক্ষ।
সেখানে বলা হয়, “শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান দুজনই উদ্ভূত ঘটনায় পরিস্থিতির শিকার। ওই ঘটনা সংক্রান্তে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট (পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়) কারও বিরুদ্ধে কোনোরূপ অভিযোগ না থাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় আকস্মিকভাবে ওই ঘটনাটি হয়েছে বলে জানা যায়।”
এরপর ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে আইন ও শালিস কেন্দ্র এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়ে আদালতকে জানায়,  জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিম শ্যামল কান্তির সঙ্গে যোগাযোগই করেননি। 
সংগঠনটি একজন বিচারকের নেতৃত্বে ওই ঘটনা তদন্ত করার জন্য আর্জি জানালে হাই কোর্ট বুধবার শুনানি করে আদেশ দেয় বলে আসকের আইনজীবী জেড আই খান পান্না জানান।
মে মাসে ঘটনার পরপরই শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে চাকরিচ্যুত করেছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে নিন্দা-প্রতিবাদের মধ্যে দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিদ্যালয় কমিটিও বাতিল করা হয়। দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পর গত মাসে স্কুলে ফিরে যান শ্যামল কান্তি।
এছাড়া শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে কথিত নির্যাতিত ছাত্রের মায়ের একটি এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে করা আরেকটি মামলার আরজি নারায়ণগঞ্জের আদালত খারিজ করে দেয়।

,

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...