বাংলাদেশের অলিম্পিক আর ‘ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ে’?

রিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন ধারাভাষ্যকাররা বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন ‘বিশ্বের যে কয়টি দেশ এখনও অলিম্পিকে পদক পায়নি তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।’ যথার্থই বলেছেন ওই ধারাভাষ্যকার।

কেননা ১৯৮৪ সাল থেকে বিশ্ব ক্রীড়ার সব চেয়ে বড় আসর অলিম্পিকে নিয়মিতই অংশ নিয়ে আসছে লাল-সবুজের অ্যাথলেটরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো পদকের দেখা পায়নি। স্বর্ণ তো দূরে থাক রুপা কিংবা ব্রোঞ্জও নয়। অনেক ক্ষেত্রে পদক না পেলেও ন্যূনতম লেভেলে অর্থা‍ৎ প্রথম ৫, ১০ কিংবা ১৫ জনের মধ্যে থাকলেও আর যাই হোক স্বান্তনাটুকু পাওয়া যায়।
পরিতাপের বিষয় হলো চলমান রিও অলিম্পিক সহ মোট ৯টি আসরে অংশ নিয়েও ওই স্বান্তনাটুকু দেশকে বা নিজেদের এখনও দিতে পারেননি এদেশের কোনো অ্যাথলেট। বিষয়টি একদিকে যেমন তাদের জন্য লজ্জার, তেমনি লজ্জার দেশের জন্যও।

তবে বিগত ৮ আসরের চেয়ে এবারের আসরটি ছিল ভিন্ন। পদক বা ৠাংকিং লজ্জা নিবারণের উপলক্ষ্য হয়ে লাল-সবুজের পতাকা হাতে সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান। কিন্তু সিদ্দিকুরও পারেননি ভালো কিছু দিতে। গলফে অংশ নেয়া ৬০ জনের মধ্যে চাইনিজ তাইপের লিন হিউয়েন তাঙ নাম প্রত্যাহার করে করে নিলে প্রতিযোগির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৯। যেখানে দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর হয়েছেন ৫৮তম!      
কেন এমন হলো? জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সদস্য সচিব গ্রুপ ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাছে। হতাশাভরা কণ্ঠে তিনি জানালেন ‘এভাবে অলিম্পিকে অংশগ্রহণের কোনো মানেই হয় না। আমরা শুধু অংশগ্রহণই করছি। এতবড় আসরে যেতে একটি লক্ষ্য থাকতে হয়। তার ধারেকাছেও আমরা নেই। আমরা যারা আছি তারা রিও’কে টার্গেট ধরে কোনো কাজ করিনি। অলিম্পিক ‘ওঠ ছেরি তোর বিয়ে’র মতো কোনো বিষয় না। এত সহজ নয় অলিম্পিকে পদক জেতা। যারা জেতে তাদের বিগত পরিকল্পনা এবং লক্ষ্যের সাথে আমাদেরটা মিলিয়ে দেখেন, তারা কোথায় আর আমরা কোথায়! গেলাম আর পদক জিতলাম! এতটা সহজ মনে করার কোনো কারণ নেই।’
সরাসরি অংশ নিয়েও সিদ্দিকুর যেখানে ন্যূনতম ৠাংকিং পাননি সেখানে ওয়াইল্ডকার্ড নিয়ে বাকি ছয় অ্যাথলেট কী করতে পারবেন সেটা তো খুব সহজেই অনুমেয়।

মেয়েদের ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে ২৯.৯৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৮৮ জনের মধ্যে ৬৯তম হয়েছেন সোনিয়া আক্তার। মেয়েদের আর্চারিতে ৬৪ জনের মধ্যে ৫৩তম শ্যামলী আক্তার, মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রাক-বাছাইয়ে ২৪ জনের মধ্যে ১৭তম শিরিন আক্তার, দেশের দ্রুত মানবখ্যাত মেজবাহ আহমেদ হয়েছেন ২৪ জনের মধ্যে ১৪তম।
তবে অলিম্পিকে গিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে না পারলেও নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর। ছেলেদের ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে ২৩.৯২ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৮৫ জনের মধ্যে ৫৪তম হলেও ভেঙেছেন জাতীয় পর্যায়ে নিজের করা ২৪.০২ সেকেন্ডের রেকর্ডটি।

আর ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে কমনওয়েলথ গেমসে রুপাজয়ী আব্দুল্লাহ হেল বাকি ৫০ জনের মধ্যে হয়েছেন ২৫তম।

তবে একজন প্রশিক্ষক হিসেবে এতটা লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে নিজ দেশকে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস কিংবা এসএ গেমসের মতো আসরগুলোতে আর দেখতে চাইছেন না রফিক। দেশের পদক এবং ৠাংকিংয়ের অব্যাহত খরা কাটাতে সামনের আসরগুলোতে উদ্দেশ্যহীনভাবে না যাওয়ার পক্ষে জোর গুরুত্ব দিয়েছেন এই অলিম্পিক ট্রেনার, ‘২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে। যাওয়ার জন্য যাওয়া নয় বরং পদক জয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই অংশ নিতে হবে।’

আর এই লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।

0 মন্তব্য(গুলি)

Write Down Your Responses

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...